পথিমধ্যেঃ আমি বদলে যাবো অন-রিপিট

সারারাত, সারাদিন না ঘুমিয়ে প্রায় ৪ টা বাজে মাওয়া উঠে ড্রাইভ শুরু করলাম, শাই শাই করে চলে আসলাম মাওয়া ফেরি ঘাট এ কারণ পদ্মা-সেতুতে বাইক চলাচল নিষেধ । যাইহোক এসে দেখি ফেরি পারাপারও বন্ধ। একমাত্র উপায় লঞ্চ পারাপার তবে সেখানেও ঝামেলা পর্যাপ্ত যাত্রী না হওয়া পর্যন্ত লঞ্চ ছাড়া হয়না প্রায় দেড় ঘণ্টার মত অপেক্ষা করে প্রায় সন্ধ্যার আজানের পর লঞ্চ অবশেষে ছাড়ল ওপারের উদ্দেশ্যে। এইদিকে কানে অ্যাশেজ এর “আমি বদলে যাবো” গানটি রিপিট শুনতেছি। আমার কাছে গানটি খুবই মোটিভেশনাল টাইপ কাজ করছিলো ওইদিন ।

প্রায় ৭ টার দিকে ওপারে উঠে শুরু করলাম অন্ধকার হাইওয়ে ধরে দক্ষিণের দিকে যাত্রা, বাইকে এক্সট্রা লাইট বা ফগ লাইট না থাকায় গর্তে বা খানাখন্দে ভালোই বেগ পেতে হচ্ছিলো । তবে যেহুতু কোনো গন্তব্য তখনো নেই তাই তাড়াহুড়োও ছিলো না । হিসেব ছিল সোজা যদি ১০ টার আগে বরিশাল শহরে যেতে পারি তাহলে বরিশাল থাকবো কোনো হোটেল এ, নাহলে ডিরেক্ট চলে যাবো বরগুনার দিকে । যাইহোক ৯ টায় গিয়ে পৌঁছালাম মাদারীপুর এর দিকে এবং রাস্তার সাইডেই তেহারি খেয়ে সাড়ে ৯ টায় আবার যাত্রা শুরু করলাম । ইতিমধ্যে এমফিটামিন এর প্রভাব আমাকে হ্যাভি করে ফেলেছে । “কি করি, কি করি ভেবে না পাই” অবস্থা “মাফ কইরা দেন”- গানের মত । যাইহোক প্রায় ১০:২৬ এ বরিশাল এর আমতলা পার্ক এ এসে দাঁড়ালাম । বরিশাল আসলেই আমি এখানে হিসু-ব্রেক দেই । তখন আবার সিদ্ধান্তহীনতায় পরে গেলাম। শরীর বলতেছে বরিশাল ব্রেক দে। মনও বলতেছে বরিশাল ব্রেক দে রাস্তা টা ভালো না, তার মধ্যে অন্ধকার অবস্থা হাইওয়ে, সাকুরা আর হানিফ বাসের রাজত্ব (বরগুনা থেকে ঢাকাগামী), সবচেয়ে বেশী রিস্কি ছিল বাকেরগঞ্জ থেকে বরগুনা রাস্তাটুকু । প্রায় ৪৯ কিলোমিটার রাস্তা একদমই সরু আর গ্রামের ভিতর দিয়ে ছোট রাস্তা তবুও পটুয়াখালী না হয়ে এই শর্টকাট বেশী ব্যবহার হয় ।

যাইহোক শেষমেষ এমফিটামিন এর প্রবল চাপে আমার লজিক্যাল মাইন্ড আর কাজ করলো না। সাহসী ভাবটাই কাজ করলো কিছু না ভেবে আর এমনকি চা অথবা পানি ও না খেয়ে আবার রওয়ানা দিলাম । ৩০-৪০ মিনিট পর আস্তে আস্তে রাস্তার পাশের দোকান-পাট অথবা জনজীবন ও দেখি নাই হতে শুরু করলো । সাড়ে ১১ টার পর তো মনে হচ্ছে পৃথিবীতে আমি ছাড়া আর কেউ নেই । মাঝে মাঝে দুয়েকটা গাড়ি আমাকে সামনের দিক থেকে ক্রস না করলে মনে হয় পুরো পৃথিবীটাই আমার মনে হতো । এভাবে করতে করতে প্রায় ১ টার দিকে গিয়ে বরগুনা বাজারে উঠি । তবে মজার ব্যাপার হল টানা ৪৩ ঘণ্টা না ঘুমিয়েও আমার ক্লান্তিভাব অনুভব হচ্ছিলোনা । উল্টো আমি বাইকের মধ্যে উচ্চস্বরে গানের সাথে কণ্ঠস্বর মেলাতে মেলাতে সামনে এগোচ্ছিলাম ।

প্রায় রাত দেড় টার দিকে আমার বরগুনার বাসায় পৌঁছে ফ্রেশ হয়ে দিলাম একটা ঘুম । সেও আরেক ঝামেলা কোনোমতে ঘুম আসছিলনা । তাও অনেক চেষ্টার পর চাইনিজ ফ্লুট মিউজিক শুনতে শুনতে ঘুম ।