যথারীতি ঘুম থেকে উঠলাম একটু দেরী করে । উঠে দেখি আমার এক দুঃসম্পর্কের মামা দেখা করতে + বেড়াতে আসছে । আমি আসা উপলক্ষে । যাইহোক উনাকে হাই হ্যালো বলে আবার এসে ঘুমিয়ে পড়লাম ।
এরপর উঠে ফ্রেশ হতে না হতেই খাওয়া দাওয়ার একটা চাপ পড়লো । এরপর মামা বায়না ধরলো আমাকে ঘুরতে নিয়ে যাবে । উল্লেখ্য সে ডিসি অফিসে সরকারী চাকুরীজীবী তাই কিছুটা গাম্ভীয্যপূর্ণ মানুষ তবে অনেক বোকাসোকা টাইপের মানুষ । যাইহোক মামা মূলত সুরঞ্জনা যাওয়ার পরামর্শ দিলো । খাওয়া দাওয়ার পর কল থেকে পানি এনে গোসল করলাম কারণ ঝর্নার পানিটা পুকুরের পানির সাথে কানেকটেড তাই কিছুটা ময়লা ।
সুরঞ্জনা যাওয়ার পরপরই মামা ডিসি অফিসের আইডি কার্ড টা গলায় ঝুলিয়ে টাকা মাফ করে ফেললো । ভেতরে গিয়ে দেখি কৃত্রিম ভাবে বানানো ডেটিং জোন হচ্ছে সুরঞ্জনা তবে নাম দিয়ে ইকো পার্ক । সেখানে কাশফুল, পশুপাখির ভাস্কর্য এবং জঙ্গলে যেভাবে মাচা করে কাঠের পথ থাকে সুন্দরবোনে সেভাবে একটা পার্ক এর মত করেছে বড় একটা জায়গা জুড়ে । মোটামুটি ঘণ্টাখানেক সেখানে ছবি তুললাম মামার সাথে । তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করিনি ছবিগুলো এখনো ।
এরপর সরাসরি চলে আসলাম বরগুনা সদরে নৌ-জাদুঘর এর উদ্দেশ্যে। এখানে এসে দেখি ম্যানেজার মামার সহকর্মী মানে এটাও ডিসি অফিসের আওতাধীন । তবে এই জায়গাটি আমাকে অনেক অবাক করেছে। মূলত নৌকা আকৃতির একটী স্থাপনার মধ্যে কাঠের তৈরি বিভিন্ন নৌ-মডেল রাখা সাথে কিছু বেসিক ইনফরমেশন। আমাদের দেশে যে এত এত নৌকা ছিল বা আছে আগে আমি তা জানতামইনা । আমরা জাতি হিসেবে আসলেই সৌখিন । অনেকক্ষণ সময় নিয়ে প্রতিটি মডেল এর ছবি তুললাম এবং ভিডিও করলাম । এরপর বরগুনা সার্কিট হাউজ এ গিয়ে চটপটি, ফুসকা খেয়ে, উনাকে উনার বাসার সামনে নামিয়ে দিলাম। তারপর আবার সদর বাজারে গিয়ে কিছু কেনাকাটা করলাম । এবং প্রায় রাত ৯ টার দিকে বাসায় আসলাম । ততক্ষণে আমাকে এমফিটামিন এবং মারিজুয়ানার ইফেক্ট ভালোভাবে ধরেছে । প্যানিক এট্যাক হচ্ছে বার বার। কি করি কি করি অবস্থা আবার শরীর ভেতর থেকে প্রচুর ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে । কিছুই ভাল্লাগছেনা অবস্থা । এভাবেই বিছানার এপাশ ওপাশ ছটফট করতেছি ।
রাত প্রায় সাড়ে ১২ টার দিকে, তখন হুট করে সামনে বৃহস্পতি গ্রহ এর নিকটতম আসার একটা পোস্ট সামনে পড়লো । কি আর করার এডিক্টেড এর পছন্দের কিছু সামনে পড়ে গেছে । সেই রাত ১ টার দিকে ছাদে উঠে গেলাম। দেখলাম সত্যিই দক্ষিণ পূর্ব পাশে একটা তুলনামূলক বড় তারা আর জ্বলজ্বল করতেছে । অনেক কষ্ট করে ১৩ প্রো ম্যাক্স দিয়ে কিছু ছবি ক্যাপচার করতে পারলাম । এত নিকটে আবার বৃহস্পতি গ্রহ আসবে ৫৯ বছর পর । ২ টার দিকে এসে আবার বিছানায় প্যানিকড হচ্ছিলাম । এবং প্রায় রাত ৪ টা পর্যন্ত অযথাই ৪ জি ইন্টারনেট বিহীন লোডিং স্ক্রিন এ সজাগ ছিলাম । তারপর ৫ টার আগে আগে হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছিলাম ।
