প্রথম দিন সকালই শুরু করি প্রায় দুপুরে । আমার আবার পুরনো হিসেব, আমি যখন উঠবো তখন থেকেই সকাল তাই এভাবে বলা… ঘুম থেকে উঠে বাড়ির সামনে বানানো বৈঠকখানাতে গিয়ে বসেই দেখি পিছি জিহাদ মামা আর তার বন্ধু মারবেল (গুল্লি) খেলতেছে । নাক্কিমুট । আমার শৈশবের একটা বড় সময় কেটেছে এই নাক্কিমুট খেলে । এরশাদ মাঠ, চান মিয়াঁর গলি, রিকশা গ্যারেজ গুলোর ফাঁকে ফাঁকেই – এ দিনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে বয়াম ভর্তি গুল্লি নিয়ে । এমনকি মারামারিও লেগে যেতাম এত সিরিয়াস ছিলাম জেতা নিয়ে । আমার মামাতো ভাই ইব্রাহিম বা সাদ্দাম এর সাথে প্রায়ই লাগতো এই গুল্লি খেলা নিয়ে । আবার আমি ভালো স্টক ও রাখতাম । দেড় – দুই হাজার বিভিন্ন পদের গুল্লি বয়ামে বয়ামে সাজিয়ে রাখতাম । শহরে তো কত বছর হয়েছে ফ্লাটের এই শহুরে জীবনে তো বাচ্চাদের খেলতেই দেখিনা একসাথে । সেখানে ওদের গুল্লি খেলতে দেখে হুট করে ছোটবেলার অনেক কথা মনে পড়ে গেলো ।
এরপর খেলতেও মন চাইলো, জিহাদ এর থেকে ২৫ টি মারবেল লোন নিলাম এবং ওদের সাথেই নাক্কিমুট খেলা শুরু করলাম । কিছুক্ষণের মধ্যেই ওর লোন শোধ করে দিলাম ওর বন্ধুকেও লাড়ি (ফতুর) করে দিলাম । এভাবে প্রায় ঘন্টাখানেক খেলার পর উল্টো জিহাদ আমার কাছে ১১০ টি মারবেল ঋণী হয়ে গেলো , এরপর দেশী চিংড়ি মাছ ভুনা আর রুটি দিয়ে সকালের নাস্তা সেরে নিলাম ।
এরপর আস্তে আস্তে নিজের কাজের জন্য নেটওয়ার্ক আর ডেস্ক এর ব্যবস্থা করতে থাকলাম । সন্ধ্যের দিকে একটু সদরে গেলাম কিছু কেনাকাটা করার জন্য ।
